ডেইলি স্টার ব্যানার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে গেছেন। সেখানে হিসেবে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে আলোচ্যসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্ভাব্য বিরোধের দীর্ঘ তালিকায় নতুন একটি বিষয় যুক্ত হয়েছে—ইরান যুদ্ধ।
মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে চীনের আরও বড় ভূমিকা রাখা উচিত। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সংকট সমাধানে বেইজিং যদি সহায়তা করে, তাহলে এর বিনিময়ে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় চাইবে, সম্ভবত তাইওয়ান ইস্যুতে। তবে ট্রাম্প-সি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ইরান খুব উপরের দিকে থাকবে বলেও মনে করা হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বওডৌইন কলেজে গভর্নমেন্ট অ্যান্ড এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার হারলিন বলেন, ‘ইরান ইস্যু এই সম্মেলনে কোনো পক্ষের জন্যই মূল বিষয় নয়। ’ হারলিন বলেন, যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে বৈঠকটি পিছিয়ে গেলেও চীনের কাছে তাইওয়ানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে। অন্য দিকে, ট্রাম্প সম্ভবত বেইজিংকে আরও বেশি মার্কিন সয়াবিন কেনার জন্য চাপ দেবেন।
চীন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বড় আমদানিকারক। ফলে তেহরানের হরমুজ অবরোধ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতায় চীনের অর্থনীতিও চাপে পড়তে পারে।
তবু হারলিন বলেন, এই সংকটে সরাসরি জড়াতে বেইজিং এখনো অনীহা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে চীনারা নিজেদের এমন এক পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যারা হয়তো এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তারা সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আতিথ্য দিয়েছে। কিন্তু মনে হচ্ছে, এই সফরের অপেক্ষায় তারা সংঘাত বন্ধে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত রয়েছে।’
‘চাপের মুখে’ ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধের আগে এবং যুদ্ধ চলাকালেই বেইজিং বড় ধরনের তেল মজুত গড়ে তুলেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ঘাটতির সময় এই মজুত তাদের সহায়তা করেছে, তবে সেই মজুত সীমাহীন নয়। তাই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ব্যাপারে চীনের নিজস্ব স্বার্থও রয়েছে। একই সঙ্গে, যদি ইরান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক পরিসরে ওয়াশিংটন দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটিও চীনের জন্য কৌশলগত সুবিধা হতে পারে। অনেক পর্যবেক্ষকের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ ক্রমেই এক ‘অজেয় যুদ্ধে’ পরিণত হচ্ছে।
গত মাসে দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন তাদের প্রচ্ছদে এই বাস্তবতাই তুলে ধরে। সেখানে ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে থাকা সি চিনপিংয়ের একটি ছবি ছাপানো হয়। ক্যাপশন ছিল ‘নেপোলিয়ন বোনাপার্টের’ নামে প্রচলিত একটি উক্তি, ‘তোমার শত্রু যখন ভুল করে, তখন তাকে বাধা দিও না।’
লন্ডনের সিটি সেন্ট গ্রেগর’স ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক ইন্দরজিৎ পারমার বলেন, ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে ট্রাম্প ‘চাপের মুখে’ চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এখন কিছুটা জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালি খুলতে তাঁর চীনের সমর্থন দরকার। চীনেরও নিজেদের স্বার্থে হরমুজ খুলে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, ইরান থেকে তেল ও জ্বালানি তাদের দরকার। একই সময়ে তারা তাইওয়ান ইস্যুতে এটিকে কৌশলগত চাপ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।’
তবে মঙ্গলবার চীন সফরে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে তাঁর সি চিনপিংয়ের সহায়তা প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিচ্ছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার কারণে এই যুদ্ধ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চীনকে সংকট নিরসনে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান। বেসেন্ট বলেন, ‘ইরানের হামলার কারণে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এটি পুনরায় খুলে দিচ্ছি। তাই আমি চীনকে আহ্বান জানাব, তারা যেন এই আন্তর্জাতিক অভিযানে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়।’ তিনি আরও বলেন, চীনই ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। একই সঙ্গে তিনি বেইজিংকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে অর্থায়নের’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। বেসেন্ট বলেন, ‘দেখা যাক তারা কূটনৈতিকভাবে এগিয়ে আসে কি না এবং ইরানিদের দিয়ে প্রণালিটি খুলতে পারে কি না।’
চীনের পরিকল্পনা
থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই হরমুজ প্রণালি খুলতে চায়, ‘কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের অবস্থান এক নয়।’ চীন যেখানে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে, সেখানে ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন।
ইরানও জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবে না। চলতি মাসের শুরুতে শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ খুলে দেওয়ার যে মার্কিন সামরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটি খুব অল্প সময় স্থায়ী হয় এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। ইরানের বন্দর অবরোধ বহাল রেখেই পরিচালিত ওই অভিযান ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে শেষ হয়ে যায়। তাতেও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।
উইলিয়াম ইয়াং বলেন, ‘ওয়াশিংটন বুঝতে পারছে, ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বেইজিংয়ের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা এটাও জানে, অবরোধ শেষ করতে সরাসরি চীনের সহায়তা চাওয়া মানে হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চীনের হাতে কৌশলগত বাড়তি সুবিধা তুলে দেওয়া। ফলস্বরূপ, ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতে চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন। তেহরান যদি ওয়াশিংটনের শর্তে রাজি না হয়, তাহলে আবারও বোমা হামলা শুরুর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।’
এপ্রিল মাসে সি চিনপিং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং এগিয়ে নিতে ‘চার দফা পরিকল্পনা’ প্রস্তাব করেন। সেখানে ছিল—শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি অঙ্গীকার, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থন। প্রস্তাবটি কিছুটা অস্পষ্ট হলেও এটি মূলত বহুপাক্ষিকতা ও কূটনীতির প্রতি চীনের ঝোঁককে প্রতিফলিত করে। এর বিপরীতে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নিজের লক্ষ্য পূরণে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরতার পথ নিয়েছেন।
গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাঘচিকে আতিথ্য দেন। বৈঠকের পর বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘চীন মনে করে, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এখন সবচেয়ে জরুরি। আবার সংঘাত শুরু হওয়া আরও কম গ্রহণযোগ্য। আর আলোচনার পথ ধরে থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
তারা আরও বলেছে, ‘চীন ইরানকে তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সমর্থন করে এবং কূটনৈতিক পথের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার ব্যাপারে ইরানের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখে।’ একই সঙ্গে চীন হরমুজ প্রণালিতে ‘স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌ চলাচল’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়। যুদ্ধের পর কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি তোলে ইরান। ফলে বেইজিংয়ের অবস্থান তেহরানের সেই দাবির সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক বলেই মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরান থেকে তেল কিনে থাকে। পাশাপাশি তেহরানের সামরিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন পণ্য চীন বিক্রি করছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইরান ইস্যু ছিল প্রায় গৌণ বিষয়।
গত দুই দশকে চীনের অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটন বেইজিংকে নিজেদের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে শুরু করে। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
২০১৭ সালের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে বলা হয়েছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যেতে চাইলেও চীন অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রভাব বিস্তার কার্যক্রম এবং পরোক্ষ সামরিক হুমকি ব্যবহার করছে, যাতে অন্য রাষ্ট্রগুলো তাদের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা এজেন্ডা মেনে চলে।’ সেখানে আরও বলা হয়, ‘চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য কৌশল তাদের ভূরাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করছে।’ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও ট্রাম্পের নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। তাঁর প্রশাসন বেইজিংকে ওয়াশিংটনের জন্য ‘উদীয়মান চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
চীনের উত্থান মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের জোট আরও গভীর করার চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও খারাপ হয়েছে। বাণিজ্যনীতি, নিষেধাজ্ঞা, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দাবি, কোভিড-১৯ মহামারি এবং তাইওয়ানের অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে।
বিশেষ করে, ২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করলে সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। এর কয়েক মাস পর নতুন আরেকটি সংকট তৈরি হয়। ওয়াশিংটন অভিযোগ তোলে, চীন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় ‘গোয়েন্দা বেলুন’ পাঠিয়েছে। তবে বেইজিং দাবি করে, সেটি ছিল একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন, যা ভেসে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চলে গিয়েছিল।
এরপর, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার প্রশ্নে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দিতে শুরু করে। ট্রাম্পের সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে পশ্চিম গোলার্ধে বেশি মনোযোগ দিতে চায়। তবুও শুল্ক ও বাণিজ্য দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের বিরক্তির কারণ হয়ে রয়েছে। পাশাপাশি ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুও উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
চীন কী চাইতে পারে?
ইরান নিজেকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে দেখে এবং মিত্র বা প্রতিপক্ষ কারও ওপর নির্ভরশীল নয় বলে জোর দেয়। তবু তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কিছু কার্যকর উপায় চীনের হাতে আছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সি চিনপিং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পকে সহায়তা করেন, তাহলে সেই সহযোগিতা বিনামূল্যে আসবে না।
বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকারের একটি হলো তাইওয়ান। স্বশাসিত এই দ্বীপটিকে চীন নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ অনুসরণ করলেও তারা তাইওয়ানের সঙ্গে অস্ত্র ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। যদিও দ্বীপটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
কংগ্রেস অনুমোদিত তাইওয়ানের জন্য সর্বশেষ ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজে এখনও স্বাক্ষর করেননি ট্রাম্প। অধ্যাপক পারমার বলেন, হরমুজ পুনরায় চালু করতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের বিনিময়ে চীন তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতার নিশ্চয়তা চাইতে পারে। হারলিনও বলেন, চীনের মূল আগ্রহ তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা করা।
হারলিন বলেন, ‘তারা মনে করে ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো তাইওয়ান প্রশ্নে দুর্বল, অথবা তাদের অবস্থানের প্রতি আরও প্রভাবিত করা সম্ভব। বিশেষ করে মনে হচ্ছে, চীনারা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করবে যেন তিনি সেই অস্ত্র বিক্রয় চুক্তি এগিয়ে না নেন, যেটি মূলত তার ডেস্কেই পড়ে আছে।’