logo

কক্সবাজারে ওএমএসে অনিয়মের অভিযোগ, ভর্তুকির চাল-আটা কালোবাজারে বিক্রির দাবি

জেলার সংবাদ ডেস্ক
Published: 17 May, 2026
photo
.

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

কক্সবাজারে সরকারি খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকিমূল্যের চাল ও আটা ওএমএস নীতিমালা-২০১৫ লঙ্ঘন করে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় কিছু অসাধু ডিলার ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি উঠেছে।

 

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার কথা। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত খাদ্যপণ্য পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা “বরাদ্দ শেষ” বা “মাল কম এসেছে” উল্লেখ করে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, একই সময়ে পেছনের দরজা দিয়ে কিংবা ডিলারদের ব্যক্তিগত গুদাম থেকে সরকারি চাল ও আটা খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওএমএসের সরকারি সিলযুক্ত বস্তা থেকে খাদ্যপণ্য সরিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ব্র্যান্ডের প্লাস্টিক বা চটের বস্তায় ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, সরকারের ভর্তুকির সুবিধা প্রকৃত হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও দুর্নীতির কারণে তারা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে একজন তদারকি কর্মকর্তা বা ট্যাগ অফিসারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মে নীরব সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত কমিশন বা মাসোহারা নেওয়ায় কার্যকর তদারকি হচ্ছে না।

 

সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ঝাউতলা মোড়ে ডিলার তপন কান্তি দাসের দোকান সিলগালা করেন জেলা খাদ্য কর্মকর্তা। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় হাসেম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামাল জব্দ করে এবং দুজনকে আটক করে।

 

তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযানে যাওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা পরবর্তীতে ডিলারের প্রতিনিধির সঙ্গে গোপন আলোচনা করেন এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জনরোষের মুখে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ভুক্তভোগী নিম্নআয়ের মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তারা সরকারি দামে চাল পান না, অথচ একই চাল বাজারে বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়।

 

এ পরিস্থিতিতে সচেতন মহল জেলা প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিষয়টি পর্যালোচনা করে আগামী রবিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।