logo

নাগরিকত্বের নিয়ম শিথিল, কানাডায় আগ্রহ বাড়ছে মার্কিনিদের

ডেইলি স্টার ব্যানার
Published: 31 May, 2026
photo
.

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র–কানাডার সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন সৃষ্টি হলেও সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, অনেক মার্কিন নাগরিকই কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

 

কানাডার নাগরিকত্ব আইন সম্প্রসারণের পর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে শুধু কানাডীয়দের প্রথম প্রজন্মের বংশধরেরা নাগরিকত্ব দাবি করতে পারতেন, সেখানে নতুন নিয়মে আরও বিস্তৃত পরিসরের বংশধরদের জন্য সেই সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বংশগতসূত্রে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র অনুমোদনের সংখ্যা চলতি বছরে প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি বেড়েছে বলে দেশটির অভিবাসন সংস্থার তথ্য থেকে জানা গেছে।

 

তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সময় অতিরিক্ত অনুমোদনের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৭৫।

 

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেওয়া অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রায় ৪৮ শতাংশই পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আবেদনকারীরা।

 

অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এই উচ্চ হার মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অনেক মার্কিন নাগরিক কানাডাকে বসবাস বা উচ্চশিক্ষার জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।

 

সিয়াটলের ৪১ বছর বয়সী উইলিয়াম হানিওয়েল বলেন, "সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি আমাদের পরিবারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। "

 

তিনি চলতি বছরের শুরুতে কানাডার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন এবং আগামী নয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে জবাব পাওয়ার আশা করছেন। তার প্রপিতামহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে সাসকাচেওয়ানে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং তার দাদা কানাডায় জন্মগ্রহণ করেন।

 

তিনি বলেন, "আমার মেয়ে যদি কানাডায় পড়াশোনা করতে বা বসবাস করতে চায়, তাহলে সে সহজেই যেতে পারবে। এর জন্য কোনো ভিসা লাগবে না, কোনো সময়সীমার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না।"

 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী নিক বার্নিং বলেন, নতুন আইনের আওতায় নাগরিকত্ব পাওয়া বেশিরভাগ মানুষ সম্ভবত বিদেশেই বসবাস অব্যাহত রাখবেন। তবে তারা ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের সম্ভাবনা ও বিকল্পগুলো খোলা রাখতে চাইছেন।

 

নিক বার্নিং আরও বলেন, "কানাডার নাগরিকত্বের প্রতি বর্তমান আগ্রহের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে চান, তবে পরিস্থিতি যদি অসহনীয় হয়ে ওঠে, তাহলে বিকল্প একটি পথ নিজেদের জন্য খোলা রাখতে চাইছেন।"

 

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি জনগণের অসন্তোষ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

 

এদিকে, কানাডার পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পর দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কেও উত্তেজনা বেড়েছে।

 

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) রয়টার্সকে জানিয়েছে, নতুন চালু হওয়া নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র ক্যাটগরিতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৪০টি, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ২৫৫টি এবং মার্চে ১ হাজার ৪০৫টি আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে।

 

কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইনটি ২০২৩ সালের আদালতের এক রায়ের পর প্রণয়ন করা হয়। ওই রায়ে বিদেশে জন্ম নেওয়া শুধু প্রথম প্রজন্মের বংশধরদের মধ্যে নাগরিকত্ব সীমাবদ্ধ রাখার বিধানকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

 

নতুন আইনের ফলে, যেসব ব্যক্তি প্রজন্মের পর প্রজন্ম কানাডার বাইরে বসবাস করেছেন, তারাও বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারলে কানাডার নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা সরকার। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাম্প্রতিক নাগরিকত্বের নতুন এই পদক্ষেপ বেশ সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।