logo

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী - পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Daily Star Banner
Published: 01 September, 2026
photo
.

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।


আজ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যাব—এটা ঠিক আছে।


কিন্তু কোনো তারিখ সেট হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। ’গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি কনফারেন্সে কথা বলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশে।


শেখ হাসিনার ওই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এখন আলোচনা চলছে।


এক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সময় অনুকূল হলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।’ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশ যেমন আশ্রয় দেবে না, তেমনি বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে ভারতও তাদের ভূখণ্ডে জায়গা দেবে না বলে ঢাকা প্রত্যাশা করে—জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তা সম্পর্ক উন্নয়নের পথ তৈরি করবে।’


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়। কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না।’


বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়ন এবং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ জন্য যাত্রীসেবা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট ও এয়ারক্রাফট নেটওয়ার্ক বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এভিয়েশন সেক্টরে যাত্রীসেবা পূরণ করতে হবে এবং বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব ও গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আপনি যদি ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস দেখেন, তারা প্রায় সব জায়গায় পৌঁছায়। আমাদেরও চাহিদা আছে। কিন্তু আমাদের এয়ারক্রাফট নেটওয়ার্ক সেই চাহিদা অনুযায়ী নয়।’


প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বাড়ছে। আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনার সক্ষমতা যেখানে আছে, আমরা কিনতে থাকব এবং কিনব। এটি চলমান প্রক্রিয়া।’


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠকের পর বাংলাদেশ এতে যুক্ত হতে পারে বলে যে বক্তব্য এসেছে, তার অর্থ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে।


চুক্তিতে যোগ দিতে বাংলাদেশের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জরুরি কি না এবং বাংলাদেশ যোগদানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। হুমায়ুন কবির বলেন, জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।