Daily Star Banner
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও উদ্বেগজনক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৪৫,৪৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১,৫৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগস্ট মাসে ২০,৫৩৬ জন ভর্তি হলেও সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯,৬২৯ জনে। সংক্রমণের এই তীব্র ঊর্ধ্বগতি দেখে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে পরবর্তী এক মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ চরম আকার ধারণ করতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো কিংবা চিকিৎসার পরিধি সম্প্রসারণ করে এই মহামারি ঠেকানো সম্ভব নয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মূল ধাক্কা দিতে হবে এডিস মশার প্রজননস্থলে। মশা নিধন, সঠিক রোগ নজরদারি, ব্যাপক জনসচেতনতা এবং মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা—এই চার মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একই সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ পরিচালনা করা জরুরি।
যেহেতু ডেঙ্গু একটি বহুখাতভিত্তিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা, তাই এককভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নির্মাণ খাত, গণমাধ্যম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি নাগরিককে এই লড়াইয়ে সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হলো এডিস মশার লার্ভা জমে থাকার সম্ভাব্য স্থানগুলো দ্রুত ধ্বংস করা। বাসা-বাড়ি ও কার্যালয়ের ছাদ, ছাদবাগান, টব, বোতল-ক্যান, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি ও নির্মাণাধীন ভবনে যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে—সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। সময়ক্ষেপণ না করে এখনই সর্বাত্মক ও সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুললে আগামী কয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।