Daily Star Banner
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগকে ‘দুঃখজনক’ ও ‘লজ্জার’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার মতে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে হওয়ার কারণে পুতুলকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
পুতুলকে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে নিয়োগের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য ‘লজ্জার’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা ও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। বাংলাদেশও উপযুক্ত ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন করবে।
এ সময় মালদ্বীপের একজন প্রার্থীর উদাহরণ দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই প্রার্থীর ভালো রেকর্ড ও শক্তিশালী যোগ্যতা রয়েছে। ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কোনো রাজনৈতিক পরিবার বা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। কোনো নিয়োগে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সায়মা ওয়াজেদকে ডব্লিউএইচও থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে ডব্লিউএইচওর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিস্তারিত তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফিরিয়ে এনে তা জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।