Daily Star Banner
প্রযুক্তি, পর্যটন ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতে তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কাঠমান্ডুর একটি স্থানীয় হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান প্রফেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর ৭ম আসরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
‘Season Media’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেপালের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাম বরণ যাদব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে বাংলাদেশ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তিদের এ অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রদূত সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে এবং কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প, উদ্ভাবন ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে উৎসাহিত করে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত প্রযুক্তি, পর্যটন ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এশিয়ার দেশগুলোর জনগণ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট ও টেলিভিশন মিডিয়ার সাংবাদিক এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পর্যটন এবং অন্যান্য সৃজনশীল শিল্পে এশিয়ার বিপুল সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।
নেপালে উৎকর্ষকে স্বীকৃতি ও উদযাপনের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত দেশটির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, নেপালি সমাজের সৌন্দর্য ও দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেপালের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, বুদ্ধের কালজয়ী শিক্ষা এবং দেশটির অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, বিনয়, পারস্পরিক স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধাবোধের এক গভীর দর্শনকে সমৃদ্ধ করেছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের চমৎকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন।
‘এশিয়ান প্রফেশনাল অ্যাওয়ার্ড’ নেপালের গণমাধ্যম অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পখাতে দীর্ঘদিনের অবদান ও শিল্প নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পঞ্চকন্যা গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি প্রেম বাহাদুর শ্রেষ্ঠকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া, বিভিন্ন খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন বাংলাদেশিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন-আলহাজ মো. সোহাগ, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, মিম শরৎ গ্রুপ (Outstanding Business Leadership & Social Responsibility Award); ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ, প্রধান ফটোসাংবাদিক, দৈনিক খবরের কাগজ (Excellence in Photojournalism Award); এবং মো. শরীফ সারোয়ার আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার (Ocean & Underwater Photography Excellence Award)।
নেপাল ফটোগ্রাফি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ‘Season Media’ -এর চেয়ারম্যান প্রদীপ রাজ আন্তোসহ নেপাল ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।