Daily Star Banner
দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক তদন্তের জেরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কোকে দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসেন পার্লামেন্টের প্রতি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কথা জানিয়েছেন।
নিজের দপ্তরে দুর্নীতি তদন্তের বিষয়টি পৌঁছানোর পর গত সপ্তাহে ক্রাভচেঙ্কো পদত্যাগপত্র জমা দেন। তিনি বিষয়টিকে ‘সচেতন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তদন্তকারীরা তার এক অধস্তন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন, যদিও ক্রাভচেঙ্কোর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বা তাকে সন্দেহভাজন হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়নি।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেন যখন টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে দুর্নীতির নানা কেলেঙ্কারি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ক্রাভচেঙ্কো জানান, তিনি সেমেন ক্রিভোনসের বিরুদ্ধে তদন্তের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেছেন। ক্রিভোনস ‘ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো’-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংস্থাটি ক্রাভচেঙ্কোর দপ্তরের কার্যক্রম খতিয়ে দেখেছিল।
ক্রাভচেঙ্কো টেলিগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্রিভোনসের বিরুদ্ধে অভিযোগে আনেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ২০০৮ সালের একটি দুর্নীতিজনিত অপরাধের দায় এড়াতে ক্রিভোনস প্রতারণামূলক পন্থা অবলম্বন করেছেন।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিদেশ সফরের ঘোষণা দিয়ে ক্রাভচেঙ্কো জনসমালোচনার মুখে পড়েন। এর জবাবে তিনি টেলিগ্রামে জানান, এই সফরে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে এবং সেখানে তিনি ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরে বিদ্যমান ‘অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব’ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরার পরিকল্পনা করছেন।
‘ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো’ এবং ‘স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটরস অফিস’ যৌথভাবে সেই মামলাটি পরিচালনা করেছিল যার জেরে ক্রাভচেঙ্কো পদত্যাগ করেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, ক্রাভচেঙ্কোর দাবিগুলোকে স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাগুলোর ওপর পরিকল্পিত আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তরের অধীনস্থ করার জোর প্রচেষ্টা শুরুর মধ্য দিয়েই এই আক্রমণের সূচনা হয়েছিল।
তারা আরও জানান, ক্রিভোনসকে তার বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর জেনারেলের বক্তব্যগুলো মূলত জনসমক্ষে দেওয়া মন্তব্য মাত্র এবং এগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লেখেন, এই প্রসিকিউটর জেনারেলের সামনে এখন একটাই পথ খোলা আছে; পদ থেকে অপসারণ। আমি তাকে ঠিক এই কথাই বলেছিলাম। ইউক্রেন এর পেছনের সব কারণই দেখেছে। তিনি যদি এটিকে রাজনৈতিক চাপ বলতে চান, তবে তা বলার পূর্ণ স্বাধীনতা তার রয়েছে। আমি পার্লামেন্টের সদস্যদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা অবিলম্বে এই বরখাস্তের বিষয়টি সমর্থন করেন।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।